খুলনা ব্যুরো:
খুলনার দিঘলিয়ায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পার হলেও উদ্ধার হয়নি কলেজ ছাত্রী নুসরাত জাহান নিশি (১৮)। তিনি নিখোঁজ নাকি অপহরণের শিকার—তা নিয়ে তীব্র শঙ্কা ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার। নিখোঁজ নিশি খুলনা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক প্রবাহ’ পত্রিকার দিঘলিয়া প্রতিনিধি সাংবাদিক সৈয়দ জাহিদুজ্জামানের ছোট মেয়ে। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী বাবা। পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় মেয়েটির অবস্থান শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক সৈয়দ জাহিদুজ্জামানের কনিষ্ঠ কন্যা নুসরাত জাহান নিশি গত ২৮ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ বাড়ি থেকে কোচিংয়ের উদ্দেশ্যে বের হন। তার মেজো বোন ও ভগ্নিপতি তাকে গোলারঘাট পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে একটি ভ্যানে তুলে দেন।
বিকেল পৌনে ৫টার দিকে কোচিং শেষ করে দুই বান্ধবীর সঙ্গে খুলনা-যশোর মহাসড়কের পূর্ব পাশ ধরে হেঁটে শামীম হোটেল পর্যন্ত আসেন নিশি। সেখান থেকে তার দুই বান্ধবী নিজ নিজ গন্তব্যে (বিলডাকাতিয়া ও শিরোমণি) ইজিবাইকে করে চলে যান। কিন্তু এরপর থেকে নিশির আর কোনো খোঁজ মেলেনি। শামীম হোটেলের সামনে থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তিনি। ঘটনার পরপরই সেদিন রাতে নিশির বাবা দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানান।
নিখোঁজ ছাত্রীর বাবা সাংবাদিক সৈয়দ জাহিদুজ্জামান উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, “আমি কোনো কারণই খুঁজে পাচ্ছি না। আমার মেয়ে নবম শ্রেণি থেকেই দৌলতপুরে কোচিং করছে। কখনও কোনো ছেলের সাথে কোনো সম্পর্কের কথা শোনা যায়নি। এমনকি কেউ তাকে ডিস্টার্ব করলে সে সরাসরি এসে আমাদের বলত। প্রতিদিন কোচিং শেষে সময়মতো বাড়ি ফিরত সে; কোনো দিন দেরি হলেও আমি গোলারঘাটে অপেক্ষা করতাম এবং তাকে সাথে করে বাড়ি নিয়ে আসতাম। এবার মাগুরার মোহাম্মদপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে সে। চার মেয়ের মধ্যে নিশি সবার ছোট। তাকে না পেয়ে পুরো পরিবার এখন চরম হতাশা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।”
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মো. মোরাদুল ইসলাম জানান, গত ২৮ অক্টোবর সবশেষ তথ্যানুযায়ী মেয়েটির অবস্থান মাগুরায় দেখা গিয়েছিল। তবে বর্তমানে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে নতুন কোনো অবস্থান নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাকে উদ্ধারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড