কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নদ-নদী দ্বারা বেষ্টিত। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এবার বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের কোনো বন্যা বা অকাল বন্যা না হওয়ায় কৃষকরা নিচু জমিসহ রোপা আমন ধানের পর্যাপ্ত চাষ করেছেন, যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত সার পেলে আমন ধানের ফলন আরও বেশি বাম্পার হতো। তবে সার সংকট থাকায় সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি; বরং ভিন্ন উপায়ে বহিরাগত জেলা থেকে সার সংগ্রহ করতে হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, এবার ধানক্ষেতে তেমন কোনো রোগবালাই দেখা যায়নি।
কৃষকরা জানান, ভালো ফলন পাওয়ার জন্য তাঁদের প্রতি শতাংশ জমিতে ইউরিয়া এবং টিএসপি বা ডিএপি সার ২.২৫ থেকে ২.৫ কেজি পর্যন্ত প্রয়োগ করতে হয়েছে, যা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্দেশনার বহির্ভূত। এছাড়া, বহিরাগত জেলা থেকে চড়া দামে সার কিনতে হয়েছে। প্রতি একর জমিতে ধান ফলাতে ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা খরচ হয়। উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে কৃষকরা কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
কৃষি বিভাগের মাঠকর্মী আনোয়ার, জহুরুল ও নজরুলসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষকরা জমিতে গোবর বা কম্পোস্ট সার ব্যবহার না করায় ইউরিয়া এবং ডিএপি বা টিএসপি সারের ব্যবহার বেশি করে থাকেন। এছাড়া, এবার বন্যা না হওয়ায় অপ্রত্যাশিতভাবে অনেক নিচু জমিতেও আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সার ব্যবহার না করায় কিছু এলাকায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছিল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক আল জুবায়ের বলেন, "সারা দেশের মতো চর অঞ্চলেও খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে আমরা সার্বক্ষণিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মাঠকর্মীরা সশরীরে মাঠে গিয়ে কৃষকদের ভালো মানের ফসল ফলানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। অধিক ও উন্নত ফলন নিশ্চিত করতে আমিও নিয়মিত মাঠপর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।"
তিনি আরও জানান, চর রাজিবপুর উপজেলায় ২৬৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বন্যা না হওয়ায় কৃষকরা আরও অধিক পরিমাণে নিচু জমিতে আমন চাষ করেছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, আল্লাহর রহমতে কৃষকদের আমন ধানের ক্ষেত অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড