উপজেলা প্রতিনিধি, কুমারখালী (কুষ্টিয়া):
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ ও কারেন্ট জালের বেপরোয়া ব্যবহারে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধ্বংসের উপক্রম হয়েছে। বর্ষার পর উপজেলার খাল-বিল ও জলাশয়ে মৌসুমী জেলেদের এই অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই এই অঞ্চল থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
একসময় ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ প্রবাদটি ঘরে ঘরে প্রচলিত থাকলেও, মাছের দুষ্প্রাপ্যতায় বর্তমান প্রজন্মের কাছে তা যেন স্মৃতিতে পরিণত হতে চলেছে। বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য দেশীয় মাছ কেনা এখন বেশ ব্যয়বহুল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত ধরে ছড়িয়ে পড়া অতি-ক্ষুদ্র ফাঁসের দেশি ও বিদেশী জালই এ সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গ্রামীণ হাটবাজারগুলোতে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী রমরমিয়ে বিক্রি করছে এসব নিষিদ্ধ জাল। চায়না দুয়ারি জালে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ অতি সহজেই ধরা পড়ে বলে দ্রুত লাভের আশায় জেলেরা এ জালের দিকে ঝুঁকছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদী, বিস্তীর্ণ বিল, ডোবা ও নালায় নির্বিচারে চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল পাতা হয়েছে। এর প্রভাবে স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে বাজারে আসা দেশীয় মাছের পোনার আধিক্য দেখা যাচ্ছে। যার মধ্যে শিং, মাগুর, কৈ, টাকি, পুঁটি, নন্দিল (ভেদা), শোল ও বোয়ালের মতো দেশীয় জাতের ছোট ছোট পোনা মাছই বেশি।
বিশেষ করে উপজেলার লালন আবাসন, কয়া ও মূলগ্রাম সংলগ্ন পদ্মা ও গড়াই নদীতে চায়না দুয়ারির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় অধিবাসীদের সূত্রে জানা যায়, বিগত বছরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে জাল উদ্ধার, আগুনে ধ্বংস এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান না থাকায় অবাধে চলছে এই ক্ষতিকর জালের ব্যবহার।
এ বিষয়ে কয়া এলাকার এক জেলে জানান, বর্তমানে নদীতে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। চায়না দুয়ারি জালে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ আটকায় বলে বাধ্য হয়ে তারা এটি ব্যবহার করছেন। তাদের মতো আরও অনেকেই অর্ধশতাধিক চায়না দুয়ারি ফাঁদ নদীতে পেতে রেখে মাছ শিকার করছেন।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, দেশীয় মাছের বৈচিত্র্য রক্ষায় তারা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারকারী জেলে ও এর ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..