নিজস্ব প্রতিবেদক, ছেংগারচর:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভায় নাগরিক সেবা (নাগরিক সনদ) নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তি ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একটি সাধারণ সনদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নাগরিকদের একাধিক দিন পৌরসভায় চক্কর কাটতে হচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী পৌরবাসীর অভিযোগ, অতীতে পৌরসভায় সরাসরি গিয়ে আবেদন করলেই অনেক ক্ষেত্রে একই দিনে সনদ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল করে তোলা হয়েছে।
সম্প্রতি পৌরসভার এক সেবাগ্রহীতার বাস্তব অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে দুর্ভোগের করুণ চিত্র। জানা যায়, নাগরিক সনদের জন্য পৌরসভায় গেলে বাইরে থেকে কম্পিউটার দোকান বা অনলাইন থেকে আবেদন করে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে আবেদন বাবদ ১০০ টাকা এবং পরবর্তীতে পৌরসভায় সেই আবেদন জমা দিতে আরও ১০০ টাকা ফি নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে শুধু আবেদনপত্র জমা দিতেই একজন নাগরিককে ২০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। টাকার অঙ্কটি বড় না হলেও, অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ ও হয়রানি সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, পৌরসভার নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনপত্রে সংশ্লিষ্ট কমিশনারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর নেওয়ার কথা। পৌরসভার কর্মীরা নিজ দায়িত্বে সেই স্বাক্ষর সংগ্রহ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা দীর্ঘায়িত হয়। প্রথম দিনে আবেদন করার পর দ্বিতীয় দিনে সনদ আনতে গেলে জানানো হয়, কেবল একজন প্রতিনিধির স্বাক্ষর মিললেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর বাকি রয়েছে। ফলে একটি সাধারণ সনদের জন্য একজন নাগরিককে তিন দিন পর্যন্ত পৌরসভায় যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, পৌরসভায় নির্বাচন বা প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে নানা পরিবর্তন বা অনিশ্চয়তা থাকতে পারে; কিন্তু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন নাগরিক সেবা কোনোভাবেই বন্ধ বা জটিল হতে পারে না। প্রশাসনিক দায়িত্বে যেই থাকুন না কেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কটিয়ে দ্রুততম সময়ে সেবা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব।
ছেংগারচর পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাধারণ পৌরবাসীর বিনীত অনুরোধ—নাগরিক সনদ প্রদানসহ সব ধরনের সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করা হোক। যাতে কোনো নাগরিককে সামান্য একটি সনদের জন্য দিনের পর দিন পৌরসভায় ঘুরতে না হয়। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে পৌরসেবাকে আরও জনবান্ধব করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।