১০ বছর পর জমি নিয়ে বিরোধ, সামাজিক মীমাংসার সিদ্ধান্তও বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীর
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জমি ক্রয়ের সাক্ষী দেওয়ার কথা বলে সৌদি আরবপ্রবাসী মো. বোরহান উদ্দিন মুন্সির পৈতৃক সম্পত্তির ৪ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমি ফেরত ও আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। সামাজিকভাবে আপস-মীমাংসার সিদ্ধান্ত হলেও তাঁকে জমি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি ঘাসিরচর মৌজার খতিয়ান নম্বর ২৭৮, সাবেক দাগ নম্বর ৩১০ ও হাল দাগ নম্বর ৫৮৭-এর জমি নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। বোরহান উদ্দিনের দাবি, পরিচিতজনদের সঙ্গে জমি কেনার সাক্ষী দিতে গিয়ে তিনি কৌশলে স্বাক্ষর ও টিপসই দেন। পরে জানতে পারেন, তাঁর পৈতৃক সম্পত্তির ৬ শতাংশের মধ্যে ৪ শতাংশ জমি সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, তাঁর বাবা মৃত আব্দুল মজিদ মুন্সির মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে পরিবারের সদস্যরা জমির মালিক হন। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট জমির বিভিন্ন অংশ একাধিকবার ক্রয়-বিক্রয় হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনটি দাগে জমি কেনাবেচা হলেও দখলের ক্ষেত্রে ৫৮৭ নম্বর দাগকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এহসান মিয়া ২০১৬ সালে মনির হোসেন মিয়াজীর কাছে ১১ শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন বলে দাবি করা হলেও রেজিস্ট্রি করা হয় ৭ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে জমির প্রকৃত মালিকানা, দলিলের বিবরণ ও দখল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বোরহান উদ্দিনের অভিযোগ, এ সুযোগে তাঁর অজান্তে পৈতৃক সম্পত্তির ৪ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে নামজারিও সম্পন্ন করা হয়।
সামাজিক দরবারে জমি ফেরতের সিদ্ধান্ত
গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ বিষয়ে সামাজিকভাবে আপস-মীমাংসার দরবার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ মো. খবির হোসেন মিয়া। দরবার পরিচালনা করেন দুর্গাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সুলতান আহম্মদ ভূঁইয়া।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, দরবারে জমির দলিল, খতিয়ান, বিএস পর্চা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে জমির মালিকানা ও রেজিস্ট্রি নিয়ে বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরা হয়।
দরবারের সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মনির হোসেন মিয়াজীর নিজ খরচে ৪ শতাংশ জমি বোরহান উদ্দিন মুন্সির নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে জমি রেজিস্ট্রি করে ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
থানায় ও ভূমি কার্যালয়ে অভিযোগ
বোরহান উদ্দিন মুন্সি জানান, জমির বিষয়টি জানার পর দলিল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর পৈতৃক সম্পত্তির গাছ বিক্রির অর্থ ফেরত এবং মানসিক হয়রানির প্রতিকারও দাবি করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, এ ঘটনায় তিনি মতলব উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছেও অভিযোগ দিয়েছেন।
বোরহান উদ্দিন মুন্সি তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই ও আইনগত তদন্ত প্রয়োজন।