জাতীয়
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি
অর্থনীতি
সারাদেশ
ভোরের সংবাদ
রবিবার
১৮ অক্টোবর, ২০২৬
www.bhorersangbad.com
|
www.facebook.com/bhorersangbad
|
bhorersangbad@gmail.com

বরিশালে ১৫ বছর ধরে ভূয়া চিকিৎসা প্রদান: বাবুগঞ্জে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

বরিশালে ১৫ বছর ধরে ভূয়া চিকিৎসা প্রদান: বাবুগঞ্জে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
বরিশাল প্রতিনিধি: 
বরিশালের বাবুগঞ্জে ল্যাপটপ ও বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে রোগ নির্ণয়ের নাটক সাজিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে আলীমুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। চিকিৎসক না হয়েও ব্যবস্থাপত্রে নামের আগে 'ডা.' পদবি ব্যবহার এবং ভুয়া সনদে চিকিৎসা দেওয়ার দায়ে এই শাস্তি দেওয়া হয়।
​রোববার (১৯ অক্টোবর) রাতে বাবুগঞ্জের কলেজ গেট এলাকার 'এনএমএস ফার্মেসি'তে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযান চালানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে ভবিষ্যতে আর কখনও চিকিৎসা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান ওই ব্যক্তি।
​অভিযুক্ত আলীমুল ইসলাম বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট এলাকার আব্দুল আলী হাওলাদারের ছেলে।
​স্থানীয়দের অভিযোগ, শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আসা সাধারণ মানুষকে বিশেষ ডিভাইসে হাত রাখিয়ে ল্যাপটপের মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের কথা বলতেন আলীমুল। এভাবে রোগ চিহ্নিত করার পর নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করতেন তিনি। তবে তাঁর চিকিৎসা নিয়ে কেউ সুস্থ হননি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
​জানা গেছে, বাবুগঞ্জের ডিগ্রি কলেজ গেট, মাধবপাশা বাজার ছাড়াও বরিশাল সদর ও উজিরপুরের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখে আসছিলেন আলীমুল। নিজ ব্যবস্থাপত্রে ‘ডা.’ ব্যবহারের পাশাপাশি কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজের প্রশিক্ষণ, এমবিইএইচ (ভারত) ও ডিএমএফ (ঢাকা) ডিগ্রির তথ্য উল্লেখ করতেন তিনি। নিজেকে চর্ম, যৌন, অ্যালার্জি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে দাবি করতেন।
​তবে অভিযানের সময় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁর সব সনদপত্র ভুয়া বলে নিশ্চিত করেন।
​অভিযানে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার তূর্য অধিকারী জানান, খবর পেয়ে ইউএনওর উপস্থিতিতে আলীমুল ইসলামের কাগজপত্র যাচাই করা হয় এবং সেগুলো ভুয়া প্রমাণিত হয়। তিনি মূলত চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন।
​এ প্রসঙ্গে ইউএনও আসমা উল হুসনা জানান, ভুয়া পরিচয় ও অবৈধ কাগজপত্র নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অপরাধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে বিগত ১৫ বছর ধরে এভাবে রোগী দেখে আসছেন। মুচলেকা প্রদান এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড মেনে নেওয়ায় তাঁকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
​অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ফার্মেসির সহায়তায় আলীমুল বরিশালের বিভিন্ন এলাকার অজস্র মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় ফার্মেসি মালিকদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত বা আইনগত ব্যবস্থার বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।
▶▶ এরপর পৃষ্ঠা ২
সম্পাদক ও প্রকাশক: দেওয়ান মুরাদুজ্জামান